গণিত শিক্ষকহীন বিদ্যালয়ে একমাত্র পরীক্ষার্থীও ফেল

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি। এই ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটিই যশোরের মণিরামপুর উপজেলায়।

এ উপজেলার শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও পাঁচটি দাখিল মাদ্রাসা। গতকাল সোমবার প্রকাশিত ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়, চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নেহালপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদ্রাসা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয় থেকে একজন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং অকৃতকার্য হয়। সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জন, যাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

এছাড়া চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৩জন, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও ইত্যা স্লুইস গেট দাখিল মাদ্রাসা থেকে চারজন করে এবং শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও নেহালপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ছয়জন করে পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়।

হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন যে তাদের স্কুল থেকে এবার নিয়মিত কোনো এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল না। তিনি জানান, নবম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল, কিন্তু গতবছর সে পরীক্ষা দেয়নি। এবার পরীক্ষা দিয়ে গণিতে ফেল করেছে।

তিনি বলেন, এর আগে যিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি গণিত পড়াতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর গত ৮/৯ মাস ধরে স্কুলে গণিতের শিক্ষক নেই।

চান্দুয়া-সমসকাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত বালা বলেন, বছরের বেশিরভাগ সময় স্কুলের মাঠ এমনকি শ্রেণিকক্ষেও পানি জমে থাকে। যে কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে চায় না। স্কুলটিতে ১৪ জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন। এবার এ স্কুল থেকে তিনজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাফফার হোসেন বলেন, সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইত্যা, পাড়দিয়া ও নেহালপুর মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত না। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» তারেক রহমানের পজিটিভ রাজনীতি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

» রাজধানীতে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান কর্মীরা

» অমিতাভ বচ্চনের মেসেজের জবাব দেন না প্রীতি জিনতা

» যুদ্ধ নয়, দর-কষাকষির ময়দানে ফেরার চেষ্টায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

» বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা চলবে না : অর্থমন্ত্রী

» আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ : ইসি সচিব

» ৫০তম বিসিএসের ভাইভা প্রার্থীদের জন্য পিএসসির নতুন নির্দেশনা

» জামালপুরে নসিমনের চাপায় সাইকেল আরোহী নিহত

» প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সুবিধা দিতে পিকেএসএফ-এর সাথে ব্র্যাক ব্যাংকের চুক্তি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

গণিত শিক্ষকহীন বিদ্যালয়ে একমাত্র পরীক্ষার্থীও ফেল

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করেনি। এই ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটিই যশোরের মণিরামপুর উপজেলায়।

এ উপজেলার শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও পাঁচটি দাখিল মাদ্রাসা। গতকাল সোমবার প্রকাশিত ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়, চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নেহালপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদ্রাসা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয় থেকে একজন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং অকৃতকার্য হয়। সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল নেংগুড়াহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জন, যাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

এছাড়া চান্দুয়া-সমসকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৩জন, পাড়দিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও ইত্যা স্লুইস গেট দাখিল মাদ্রাসা থেকে চারজন করে এবং শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও নেহালপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ছয়জন করে পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়।

হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান অবশ্য জানিয়েছেন যে তাদের স্কুল থেকে এবার নিয়মিত কোনো এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল না। তিনি জানান, নবম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল, কিন্তু গতবছর সে পরীক্ষা দেয়নি। এবার পরীক্ষা দিয়ে গণিতে ফেল করেছে।

তিনি বলেন, এর আগে যিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি গণিত পড়াতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর গত ৮/৯ মাস ধরে স্কুলে গণিতের শিক্ষক নেই।

চান্দুয়া-সমসকাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত বালা বলেন, বছরের বেশিরভাগ সময় স্কুলের মাঠ এমনকি শ্রেণিকক্ষেও পানি জমে থাকে। যে কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে চায় না। স্কুলটিতে ১৪ জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী রয়েছেন। এবার এ স্কুল থেকে তিনজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাফফার হোসেন বলেন, সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইত্যা, পাড়দিয়া ও নেহালপুর মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত না। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com